logo
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬
 
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • দাউদকান্দিতে সরকারি খাল দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
দাউদকান্দিতে সরকারি খাল দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
দাউদকান্দিতে সরকারি খাল দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
দাউদকান্দি (কুমিল্লা), ০৪ আগস্ট, এবিনিউজ : দাউদকান্দিতে সকরকারী খাল দখল করে বিলাস বহুল বাড়ি নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। খাল দখলের ফলে এতে বেশকিছু এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা আশংকা দেখা দিয়েছে। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-মতলব সড়কে দাউদকান্দি উপজেলার পাচগাছিয়া ইউনিয়নের সম্ভুরদিয়া ও দৌলতপুর গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রায় দেড়’শ ফুট প্রস্থ সম্ভুরদিয়া খাল দুটি গ্রামকে পৃথক করে। ১৯৬২ সালের জরিপের পর এলাকার কৃষির উপর গুরুত্ব দিয়ে এ খালটি খনন করা হয়েছিল। এ খালটি খনন করে গোমতি নদীতে লাগোনো হয়। ফলে এলাকার ৮টি গ্রামের প্রায় ৫হাজার হেক্টর জমির সেচ চাষের আওয়াতায় আসে। আর এস খতিয়ানের পর  খালটি এস এ খতিয়ানভ’ক্ত না হওয়ায় দখলের প্রতিযোগিতা শুরু করেছে ওই এলাকার প্রভাবশালীরা। তাদের মধ্যে একজন হলো, দৌলপুর গ্রামের মৃত আবিদ আলী ছেলে সোনা পাচারকারী মহসিন তালুকদার। ঢাকা-মতলব সড়কের পার্শ্বে ৫/৬বছর আগের খালের ওপর ছোট্র একটি টং দোকান দিয়ে ব্যবসা করে কোন মতে সংসার চালাতেন। তার দুই ভাই মালেয়শিয়া ও সিঙ্গাপুর থাকার সুবাধে স্বর্ণ চোরাকারবারি ব্যবসা শুরু করে। গত দুই বছরে সিঙ্গাপুর ও মালেয়শিয়া থেকে স্বর্ণ পাচার করে রাতারাতি কোটিপাত বনেযান। স্বর্ণ পাচার করে কাচা পয়সা রোজগার দাউদকান্দি উপজেলা সদরে কোটি টাকা জায়গা ক্রয় করেন। তার নিজ গ্রাম দৌলতপুর-সম্ভুরদিয়া সরকারি খাল দখল করে কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করে। খাল দখল করে জনদুর্ভোগ হওয়ার আশংকায় এলাকাবাসীর মধ্যে প্রতিবাদেও ঝড় ওঠে। এলাকাবাসীর প্রতিবাদেও কারণে নির্মাণ কাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পূর্ণরায় নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রশাসানের কর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে দৌলতপুর গ্রামের রফিক মিয়া বলেন, মহসিন তালুকদার ঢাকা-মতলব সড়কের পার্শ্বে সম্ভুরদিয়া ও দৌলতপুর খালের ওপর ব্রীজের সাথে একটি টং দোকান দেয়। এলাকার সাধারণ জনগণ মনে করেছিল এটা দিয়ে তার সংসার চলে তাই কেউ কোন বাধাঁ দেয়নি। গত ৩/২ বছরের স্বর্ণ চোরাকারবাড়ি ব্যবসা করে অঙ্গুল ফুলয়া কলা গাছ হইছে। এখন ঢাকা ও দাউদকান্দিতে বাড়ি কিনছে এবং সরকারি খাল দখল করে কোটি টাকা খরচ কইরা ৩/৪তলা বিল্ডিং কাজ শুরু করছে। খাল দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ করায় এলাকাবাসী স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসে একটি অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের পর কিছু দিন কাজ বন্ধ থাকার পর আবারও কাজ শুরু করছে।
সরকারি জায়গার ওপর বহুতল বিল্ডিং নির্মাণকারী মহসিন তালুকদার বলেন, আমার ক্রয় কৃত জায়গার মধ্যে ভবন নির্মাণ কাজ করছি। যদি সরকারী জায়গার মধ্যে আমার বিল্ডিং পড়ে থাকে তাহলে সেই জায়গা বাদ দিয়ে কাজ করবো। আমি কিভাবে টাকা রোজগার করছি তা কারো দেখার বিষয় না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এন. এম মাহফুজুর রহমান বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। দৌলতপুর ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তাকে বিষয়টি স্বরজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। 
 
এবিএন/বৃহস্পতি-২য়/সারাদেশ/ডেস্ক/জাকির হোসেন/মুস্তাফিজ/ইতি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত