logo
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬
 
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • ভূমি কমিশনের সংশোধনী বাতিলের দাবিতে পাহাড় উত্তপ্ত
ভূমি কমিশনের সংশোধনী বাতিলের দাবিতে পাহাড় উত্তপ্ত
ভূমি কমিশনের সংশোধনী বাতিলের দাবিতে পাহাড় উত্তপ্ত

রাঙামাটি, ০৩ আগস্ট, এবিনিউজ : মন্ত্রীসভায় পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন ২০১৬ পাস হওয়ার প্রতিবাদে আগামী ১০ আগষ্ট তিন পার্বত্য জেলায় সর্বাতœক হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিবেন ৫টি বাঙ্গালী সংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ৫ বাঙ্গালী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ যৌথ ভাবে সভা শেষে উপস্থিত গণ মাধ্যমকে এই কর্মসূচির ঘোষনা দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো.খলিলুর রহমান। গত ২ আগষ্ট ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয় হতে বিকাল ৫টায় পার্বত্য সম-অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন ২০০১ সরকার কর্তৃক সংশোধন করাতে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদেও সভাপতি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহম্মেদ রাজু,পার্বত্য গণ পরিষদের মহাসচিব এডভোকেট পারভেজ তালুকদার ও গণ পরিষদেও নেতা এডভোকেট আলম খাঁন, সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, উক্ত মন্ত্রীসভায় পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন ২০১৬ মন্ত্রীসভা কর্তৃক চুড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বক্তারা আরো বলেন,এই আইনটি কালো আইন,এই আইনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না। ওই কমিশনের সদস্যদের মধ্যে কোন বাঙ্গালী প্রতিনিধি রাখে নাই। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব পদে সুপ্রিম কোর্টেও আপিল বিভাগের অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার বাকি সদস্য উপজাতি হতে নিয়োগ দেওয়া হবে।এক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত বাঙ্গালীদের কোন প্রতিনিধি না থাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম এর ৪৮%বাঙ্গালী জনগণের  জন্য ন্যায্য বিচার নিশ্চিত হবে না। পাহাড়ে বসবাসরত বাঙ্গালীরা এই আইন কখনো মেনে নেবে না।প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিবে তার পরও এই আইন প্রতিহত করা হবে। মন্ত্রীসভায় পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন ২০১৬ মন্ত্রীসভা কর্তৃক চুড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় তা বাতিল এবং ভূমি কমিশনে বাঙ্গালী প্রতিনিধি নিয়োগ করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান। তিনি আরো জানান,এই সকল প্রতিবাদের প্রতি সরকার যদি কোন গুরুত্ব না দেয় তা হলে আগামী ৪ আগষ্ট ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন,৮ আগষ্ট তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ এবং ১০ আগষ্ট তিন পার্বত্য জেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল ও দাবী মানা না হলে লাগাতার হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষনা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সু কৌশলে বের কওে দেওয়ার একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র।এই আইনে(ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইনের) মধ্যে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙ্গালী মুক্ত করার জন্য সন্তু লারমা যে, পরিকল্পনা তা সহজ হয়ে গেল।পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙ্গালীরা এই আইন কখনো মেনে নেবে না। তাই ভূমি কমিশনের সংশোধনী বাতিলের দাবিতে দিন দিন পাহাড় উত্তপ্ত হচ্ছে। পাহাড়ে বসবাসরত বাঙ্গালীরা বলছেন প্রয়োজনে বুকের তাজারক্ত দিয়ে হলেও এই আইন প্রতিহত করা হবে বলে সরকার কে হুশিয়ারি করে দিয়েছে পাহাড়ের প্রভাবশালী বাঙ্গালী ভিত্তিক বেশ কয়েকটি সংগঠন। এই সংগঠনগুলো হলো পার্বত্য বাঙ্গালী সম অধিকার আন্দোলন,পার্বত্য গণ শ্রমিক পরিষদ,পার্বত্য বাঙ্গালী নাগরিক পরিষদ এবং পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ।গত মঙ্গলবার এই সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়,‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন ২০০১’ এর ৬টি ধারা সংশোধনের খসড়া বিলটি নীতিগত ভাবে অনুমোদন করেছে মন্ত্রীসভা।  ফলে ভূমির মালিকানা হারিয়ে উদ্বাস্ত হতে যাচ্ছে পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত বাঙ্গালী লাখ লাখ পরিবার।পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙ্গালীদের উচ্ছেদ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পার্বত্য ভূমি কমিশনআইনের এ সংশোধনী আদায় করছে পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। এই সংশোধনী কার্যকর হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙ্গালীদের জীবনে যে, ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তা কল্পনাও করা দোষকর হবে। এই এলাকার বাঙ্গালীরা বলছেন পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন হয়ে পড়বে সন্তু লারমার ইচ্ছে বাস্তবায়নের হাতিয়ার।

এবিএন/বুধ-২য়/সারাদেশ/এম.কামাল উদ্দিন/মুস্তাফিজ/রাজ্জাক

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত