logo
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬
 
ekattor
উলিপুরে পাট নিয়ে বিপাকে কৃষকরা
উলিপুরে পাট নিয়ে বিপাকে কৃষকরা
উলিপুর (কুড়িগ্রাম), ০৩ আগস্ট, এবিনিউজ : কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় মৌসুমের শুরুতেই চাষীরা তাদের উৎপাদিত পাট নিয়ে মহা-বিপাকে পড়েছে। এখানে সরকারি ও বেসরকারি কোন ক্রয় কেন্দ্র না থাকায় ওই সিন্ডিকেটের কাছে কৃষকরা কার্যতঃ জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ বছর পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাটের রং ও মান ভালো হলেও সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা তা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। গত দু’দিন উলিপুর হাট সহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোতে প্রতিমন পাট ১৬ থেকে ১৭’শ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত এক সপ্তাহে আগেও ১৮ থেকে ১৯’শ টাকায় তা বিক্রি হয়। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট জেলার পাট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বাজারে কোন মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় এ দরপতনের ঘটনা ঘটছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মোসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আরো অনেক বেশি জমিতে পাট চাষ করেছে কৃষকরা। ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে পাট চাষে ঝুঁকে পড়েন কৃষকরা। এ বছর পাট চাষও হয় দ্বিগুন জমিতে। উপজেলার চাষিরা এখন পাট ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ সোনালী আঁশ বিক্রি করে ভাল দাম পাওয়ার আশ ছিল তাদের। মৌসুমের শুরুতে দাম ভাল থাকায় কৃষকদের চোখে-মুখে অতীতের সেই হারানো হাঁসি ফিরে আসলেও হঠাৎ করেই বাজারে দরপতনের সংবাদে কৃষকদের মাঝে এক ধরনের হতাশা নেমে আসে। 
নারিকেলবাড়ি গ্রামের পাট চাষি হাফিজার রহমান জানান, পাট চাষ প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। ধান চাষ করে সর্বনাশের পর বাজারে ২/৩ বছর ধরে পাটের ভাল দাম দেখে এ বছর ৫ একর জমিতে পাট চাষ করি। এখন মনে হচ্ছে এখানেও বিপদ। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চাষিরা আবাদ করা ছেড়েই দিবে। এমন কথা জানালেন থেতরাই বাজারের মাহাতাব উদ্দিন, নাওডাঙ্গা গ্রামের পরেশ চন্দ্র, নিজাই খামার গ্রামের আব্দুল গনি মাস্টার, পশ্চিম শিববাড়ী গ্রামের মুনছুর আলী, বদরুল আলম।
বিগত কয়েক বছর পাটের ভাল দাম পেয়ে কৃষকরা আশাবাদি হয়ে উঠে। তাদের আশা ছিল পাটের সেই সোনালী অতীত আবার ফিরে আসবে। কিন্তু সেই আশা যেন এখন তাদের ফিকে হয়ে আসছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সরকারি নজরদারি, স্থানীয়ভাবে বাজার মনিটরিং এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। সেইসাথে কৃষকের দাবি উপজেলায় অবিলম্বে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে ক্রয় কেন্দ্র খোলার।
 
এবিএন/বুধ-২য়/সারাদেশ/ডেস্ক/আব্দুল মালেক/মুস্তাফিজ/ইতি
Like us on Facebook

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত